ভারতের
সংবিধান রচনার ঐতিহাসিক পটভূমি :-
১৭৭৩ সাল থেকে ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ভারত ছিল ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অধীনে এবং ১৮৫৮ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত সময়কাল ছিল ব্রিটিশ রাজ শাসনের অধীনে। ব্রিটিশ রাজ শাসনের অধীনে থাকার সময় শাসনকার্য পরিচালনার জন্য ব্রিটিশরা যে সকল আইনগুলি প্রণয়ন করেছিলেন সেগুলোকেই পরবর্তীকালে ভারতীয় সংবিধান রচনার পটভূমি হিসেবে গণ্য করা হয়। এই আইনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-
v রেগুলেটিং অ্যাক্ট, ১৭৭৩: - 1.ইংল্যান্ডের ব্রিটিশ সরকার ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর কার্যকলাপকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এই আইন প্রণয়ন করে।
2. এই আইনের দ্বারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রথম কার্যকরী হয়।
3. কোম্পানীর কর্মচারীগণ ব্যক্তিগত ব্যবসায় নিযুক্ত হওয়া বা জনসাধারণের কাছ
থেকে উপঢৌকন গ্রহণ করা নিষিদ্ধ হয়।
4. ইংল্যন্ডস্থ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ডাইরেক্টর সভা দ্বারা নির্ধারিত শাসক 'বাংলার গভর্নর' (গভর্নর অব বেঙ্গল, প্রথম রবার্ট ক্লাইভ) ইংল্যান্ডের পার্লামেন্ট দ্বারা স্বীকৃত শাসক 'বাংলার গভর্নর জেনারেল' (গভর্নর জেনারেল অব ফোর্ট উইলিয়াম ইন বেঙ্গল) রূপে উন্নীত হয়।
5. বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন ওয়ারেন হেস্টিংস (১৭৭৪-৮৫)।
6. ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ওপর ব্রিটিশ কেন্দ্রীয় আইনসভা নজরদারি শুরু করে।
7. ভারতে কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপিত হয়।
8. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারিদের ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
9. এই আইনের দ্বারা
১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে সুপ্রিমকোর্ট
স্থাপিত হয়। প্রথম প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন ইলাইজা ইস্পে।
v পিটের ভারত শাসন আইন, ১৭৮৪: - 1. ১৭৮৪ সালে উইলিয়াম পিট ব্রিটেনের প্রধামন্ত্রী নির্বাচিত হন।
2. ব্রিটিশ সম্রাট তৃতীয় জর্জ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীকে নিয়ন্ত্রিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আইন প্রণয়নের কথা বলে। তারই ফলশ্রুতিতে এই আইন রচিত হয়।
3. এই আইনের দ্বারা ব্রিটিশ সরকার সরাসরিভাবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ওপর সমস্তরকম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।
4. ভারতে কোম্পানী পরিচালিত রাজনৈতিক কর্মকান্ড এবং ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়গুলি দেখাশোনার জন্য 'বোর্ড অব
কন্ট্রোল' ও 'বোর্ড
অব ডিরেক্টর'
গঠিত হয়।
এই বোর্ড ইস্ট ইন্ডিয়া দ্বারা পরিচালিত ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান করত।
এদের সদস্যদের বলা হত কমিশনার।
5. 6 জন সদস্য বিশিষ্ট বোর্ড অব কন্ট্রোল
গঠিত হয়।
6.ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দ্বারা অধিগৃহীত
ভারতীয় অঞ্চলগুলিকে British Possessions in India বলে ঘোষণা করা হয়।
v
চার্টার আইন,
১৭৯৩:- ব্রিটিশ
সরকার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক সুবিধা ২০ বছর বাড়িয়ে
দেয়। বোম্বাই ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির
ওপর গভর্নর-জেনারেলের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ আরও
সুদৃঢ় হয়। বোর্ড অব কন্ট্রোলের সদস্যদের
বেতন ভারতের রাজস্ব থেকে দেওয়া হবে বলে স্থির হয়।
v
চার্টার আইন,
১৮১৩:-
1. এই আইন বলে ভারতের সমস্ত অঞ্চল ও রাজস্বের ওপর ব্রিটিশ রাজের সার্বভৌমত্ব দাবি করা হয়।
2. ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্য করার অধিকারের অবসান হয় ফলে সকল
ইংরেজ বণিকরা ভারতে ব্যবসা করার অধিকার পায়।
3. কোম্পানির অধীনে চাকরিতে যোগদান করার আগে কর্মচারীদের ইংল্যান্ডে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
4. এই আইনে ভারতে শিক্ষাখাতে ব্যয়ের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়।
5.খ্রিস্টান মিশনারিরা ব্রিটিশ ভারতে ধর্মপ্রচারের অধিকার লাভ করে। প্রদেশগুলিতে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা চালু হয়।
6.
স্থানীয় সরকার অর্থাৎ গভর্নর জেনারেল ইন কাউন্সিলকে রাজস্ব
আদায়ের অধিকার দেওয়া হয়।
v চার্টার আইন, ১৮৩৩:- 1. এই আইন বলে 'গভর্নর জেনারেল অব ফোর্ট উইলিয়াম ইন বেঙ্গল' পদের নাম পরিবর্তন করে করা হল 'গভর্নর জেনারেল অব ইন্ডিয়া' রূপে।
2. ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল হলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক (১৮৩৩-৩৫)।
3. কেন্দ্রীয় আইন পরিষদ গঠিত হয়।
4. ভারতীয় সিভিল সার্ভিস প্রতিষ্ঠা করা হয়।
5. 'পঞ্চম আইনে'র মাধ্যমে ভারতে দাস প্রথার বিলুপ্ত ঘটানো হয়।
v চার্টার আইন, ১৮৫৩:-
1. এই আইনে বাংলার জন্য আলাদা লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পদ সৃষ্টি করা হয়।
2. প্রথম এই পদে নির্বচিত হন স্যর অ্যাশলে ইডেন।
3. ভারতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন হয়।
4. উচ্চ পদগুলিতে প্রতিযোগিতামূলক পরীতার মাধ্যামে নিয়োগ করার ব্যবস্থা হয়।
5. এই আইনবলে কোম্পানির কর্মচারী নিয়োগ ও ইংল্যান্ডে প্রশিক্ষণের জন্য ডেকে পাঠানোর অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়।
6. গভর্নর জেনারেল কাউন্সিলের আইনবিভাগ ও শাসনবিভাগের মধ্যে পৃথক্করণ করা হয়।
7. সংসদীয় ব্যবস্থার সূচনা হয়।
v গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্ট, ১৮৫৮: 1. ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী দ্বারা ভারত শাসনের দুর্বলতাকে প্রকট করে।
2. উৎকৃষ্ট শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের যুক্তি দেখিয়ে ইংল্যান্ডে মহারানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্রে ভারতে ইস্য ইত্তির কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারত শাসনে ব্রিটিশ সরকারের সরাসরি কর্তৃত্ব স্থাপিত হয়।
3. যাবতীয় ক্ষমতার অধিকারী হলেন ইংল্যান্ডের রানি।
4. ভারতে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার বিলোপ ঘটে।
5. 'গভর্নর জেনারেল অব ইন্ডিয়া'র পরিবর্তে 'ভাইসরয়' পদের সৃষ্টি করা হয়।
6. ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল বা প্রথম ভাইসরয় নিযুক্ত হন লর্ড ক্যানিং (১৮৫৮-৬২)।
7. ভারতের শাসনভার কোম্পানির হাত থেকে সরাসরি ব্রিটিশ রাজতন্ত্র তথা ব্রিটিশ সরকারের হাতে ন্যস্ত হয়।
8. ভারত সচিবের পদ সৃষ্টি করা হয়।
v ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৮৬১:- 1. বিভিন্ন প্রদেশে বিধান পরিষদ বা আইন পরিষদ গঠিত হয়।
2. বাংলা, ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ ও পাঞ্জাবের জন্য
নতুন লেজিসলেটিভ কাউন্সিল গঠিত হয়।
v
জাতীয় পরিষদ আইন (১৮৬৭):- 1. কলকাতা, বোম্বাই, ও মাদ্রাজে হাইকোট
প্রতিষ্ঠা করা হয়।
2. গভর্নর জেনারেলের হাতে অর্ডিন্যান্স
জারির ক্ষমতা অর্পণ করা হয়।
v ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৮৯২: - প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যদের পরোক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
v ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৯০৯ (মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন ): -
1.লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের ক্ষমতা বাড়ানো হয়।
2.ভাইসরয় ও গভর্নরের এগজিকিউটিভ কাউন্সিলে ভারতীয়দের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়।
3.প্রথম ভারতীয় হিসেবে সত্যেন্দ্রপ্রসাদ সিনহা এই কাউন্সিলে যোগদান করেন।
4.আইন পরিষদের সদস্যদের সরাসরি নির্বাচন প্রক্রিয়ার সূচনা হয়, ফলে নির্বাচন ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। 5.মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা শুরু হয়।
6.লর্ড মিন্টো এই পৃথক নির্বাচন
ব্যবস্থার প্রবর্তন
করায় তাঁকে 'সাম্প্রদায়িক নির্বাচনের জনক' বলেও অভিহিত করা হয়।
7. সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে সদস্য নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু
হয় এবং মুসলিমদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
8.কেন্দ্র ও প্রদেশসমূহে আইন পরিষদের
সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়।
v
গভর্নমেন্ট অব
ইন্ডিয়া অ্যাক্ট, ১৯১৯
(মন্টেণ্ড-চেমসফোর্ড
সংস্কার):- 1. কেন্দ্রে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা বা বাইক্যামেরাল ব্যবস্থা
প্রতিষ্ঠিত হয়। যথা-উচ্চকক্ষ বা রাজ্য পরিষদ
(কাউন্সিল অব স্টেটস) এবং
নিম্নকক্ষ বা কেন্দ্রীয় আইনসভা
(লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি)।
2. কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে সুপরিকল্পিতভাবে ক্ষমতা ও আয়ের বণ্টন করা হয়।
3. এই আইনবলে লন্ডনে 'ভারতের হাইকমিশনার' নামে একটি পদের সৃষ্টি করা হয়।
4. ভারতীয়
প্রদেশগুলিতে 'দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।
v
ভারত শাসন আইন (১৯১৯):-1.কেন্দ্রীয় আইনসভাকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট
করা হয়।
2.
স্বায়ত্তশাসনের ক্ষেত্রে প্রাদেশিক সরকারের হাতে অধিক ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়।
v সাইমন কমিশন: - 1. ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের কার্যকারিতা নিরীক্ষণের জন্য ১৯২৭ সালে সাইমন কমিশন গঠিত হয়। এর চেয়ারম্যান ছিলেন স্যার জন সাইমন।
2.এই
কমিশন ভারতে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার বিলুপ্তি এবং প্রদেশগুলিতে প্রতিনিধিমূলক সরকার গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া সম্প্রদায়ভিত্তিক ভোটের প্রস্তাব উত্থাপন করলে হিন্দু-মুসলমান উভয়েই তা প্রত্যাখ্যান করে।
v
ভারত শাসন আইন (১৯৩৫):-1. এই আইনের ওপর ভিত্তি করে ভারতীয় সংবিধানের
কাঠামো প্রস্তুত করা হয়।
② ভারতে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গড়ে
তোলা হয়।
③ যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত গঠন করার প্রস্তাব
নেওয়া হয়।
④ কেন্দ্রীয়, প্রাদেশিক ও যুগ্ম তালিকার
মাধ্যমে শাসন ক্ষমতার বণ্টন করা হয়।
v গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্ট, ১৯৩৫:- 1. সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠন করার ব্যবস্থা করা হয় এই আইন দ্বারা।
2. ১১টি প্রদেশের মধ্যে বাংলা, বোম্বাই, মাদ্রাজ, বিহার, আসাম, উত্তরপ্রদেশ এই ছয়টি প্রদেশে আইনসভাকে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট করা হয়।
3. দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটানো হয় এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্ব শাসনের ব্যবস্থা করা হয়।
4. কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে তিনটি তালিকার মাধ্যমে শাসনক্ষমতার বণ্টন করা হয়। যথা-কেন্দ্রীয় তালিকা, প্রাদেশিক তালিকা এবং যুগ্ম তালিকা।
5. তপশিলি জাতি, মহিলা ও শ্রমিকদের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়।
6. দিল্লিতে ফেডারেল কোর্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়।
7. এই আইনে ৩২১টি অধ্যায় ও ১০টি তালিকা ছিল।
8. গভর্নর জেনারেল ও গভর্নরদের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা দেওয়া হয়।
9. ১৯২৮ সালে মতিলাল নেহরু সংবিধান রচনার জন্য একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করেন যা 'নেহরু রিপোর্ট' নামে পরিচিত।
10. ভারতীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৪০ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক স্বাধীন ভারতের সংবিধান রচনার জন্য একটি গণপরিষদ গঠনের অনুমতি দেওয়া হয়।
11. ১৯৪৭ সালের ৪ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে 'ভারতের স্বাধীনতা আইন' পাশ হয়।
12. ১৯৪৭ সালের ১২ আগস্ট লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতকে স্বাধীনতা দেওয়ার বিষয়টি ঘোষণা করেন।
13. ভারতের সংবিধান রচনার প্রধান ভিত্তি ছিল এই ভারত শাসন আইন, ১৯৩৫।
Ø
উপরোক্ত সকল
অ্যাক্ট
স্বাধীন
ভারতের
সংবিধান
রচনার
মূল
পটভূমি
হিসেবে
বিবেচিত
হয়।
ভারতের
সংবিধান :-
ভূমিকা:-
সংবিধান
হল যেকোনো দেশের সাংগঠনিক আইন, যার মাধ্যমে বর্ণিত নীতিসমূহ ও গঠনব্যবস্থার ওপর ভিত্তি
করে দেশের আইন নির্ধারিত হয়।
একটি রাষ্ট্র যে যে মৌলিক শর্তের ভিত্তিতে প্রশাসিত হবে সেই শর্তগুলির সংকলনকে বলা হবে 'সংবিধান'। রাষ্ট্রের শাসনতন্ত্রের কাঠামো, প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং তাদের মুখ্য পদাধিকারীদের ভূমিকা, ক্ষমতা দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার পূর্ণচিত্র থাকে প্রত্যেকটি সভ্য দেশের লিখিত সংবিধানে। ব্রিটেন ব্যতিরিকে বিশ্বের প্রায় প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের লিখিত সংবিধান আছে। ভারতের সংবিধান লিখিত সংবিধান গুলির মধ্যে আয়তনে বৃহত্তম। এটিই দেশের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় (26 শে নভেম্বর, 1949) এতে ছিল 22 টি পার্ট, 395 টি অনুচ্ছেদ বা ধারা এবং ৪ টি তফশিল বা সিডিউল ছিল। বর্তমানে ভারতীয় সংবিধানে 25টি Part, 448 টি ধারা বা অনুচ্ছেদ বা Article এবং 12 টি তপশীল রয়েছে।
সংবিধান:-
একটি রাষ্ট্র যে যে মৌলিক
শর্তের ভিত্তিতে প্রশাসিত হবে সেই শর্তগুলির সংকলনকে বলা
হবে 'সংবিধান'।
সংবিধানের শ্রেণীবিভাগ:- সংবিধানের শ্রেণীবিভাগকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা যায়। সংবিধানের শ্রেণীবিভাগ গুলি হল নিম্নরূপ –
১. লিখিত
সংবিধান:- লিখিত সংবিধান
হলো এমন একটি সংবিধান যা গঠিত ও
একক নথিতে লিখিত। ভারতের সংবিধান হল বিশ্বের যেকোনো
দেশের দীর্ঘতম লিখিত সংবিধান, এটি ইংরেজি-ভাষা 146,385 শব্দ সহ, লিখিত। ভারতের সংবিধান হাতে লেখেন প্রেমবিহারী নারাইন রাইজাদা।
২. অ-লিখিত সংবিধান:- অ-লিখিত সংবিধান হলো এমন এক ধরনের সংবিধান যা লিখিতভাবে সেট করা আইন বা বিধান ছাড়াই । এটি একটি একক বইতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও নথিভুক্ত করা হয়েছে।
Ø 1934 সালে এম. এন. রায় নামক এক কমিউনিস্ট ব্যক্তিত্ব প্রথম সংবিধান রচনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে চিন্তাভাবনা ব্যক্ত করেন। পরবর্তীকালে 1935 সালে জাতীয় কংগ্রেসে এই ভাবনাটি নিয়মানুগ ভাবে গৃহীত হয়। ব্রিটিশ সরকার 1940 সালের 'আগস্ট-প্রস্তাব' এ সংবিধান রচনার এই দাবীটিকে সরকারী স্বীকৃতি দেয়।
Ø ভারতীয় সংবিধান 1949 সালের 26 নভেম্বর ভারতীয় জনগণ কর্তৃক গৃহীত হয়।
Ø 1950 সালের 26 জানুয়ারী সংবিধান সম্পূর্ণরূপে বলবৎ করা হয়।
Ø মূল সংবিধানে 395 টি ধারা, 22 টি অধ্যায় ও ৪ টি তফসিল ছিল। বর্তমান সংবিধানে 448 টি ধারা, 12 টি তফসিল ও 24 টি অধ্যায় রয়েছে।
Ø
1946 সালের
16 May তারিখে গৃহীত ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনার
অধীনে গঠিত গণপরিষদের দ্বারা ভারতীয় সংবিধান বাস্তবায়িত হয়েছিল।
গণপরিষদ: - ভারতীয় সংবিধান রচনা করেছিল ভারতের গণপরিষদ। গণতান্ত্রিক রীতিনিতি অনুসারে একটি দেশের শাসন ব্যবস্থার কাঠামো সংক্রান্ত বিধি নির্দেশিকা সেই দেশের অধিবাসীদের দ্বারা রচিত হওয়া উচিত। কিন্তু দেশবাসীর সকলের পক্ষে সংবিধান রচনার কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। তাই দেশবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে কয়েকজনকে নিয়ে একটি সংস্থা গঠিত হয় । এই সংস্থা দেশ ও দেশবাসির জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন করে। দেশের জনগণের হয়ে যাঁরা সংবিধান রচনা করে, সম্মিলিতবাবে তাঁদের বলা হয় গনপরিষদ বা constituent assembly. ভারতেও গঠিত হয়েছিল গনপরিষদ এবং সেই গণপরিষদ রচনা করেছিল ভারতীয় সংবিধান
v গণপরিষদ হল ভারতের সংবিধান রচনার জন্য বিভিন্ন প্রদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি পরিষদ। ভারত স্বাধীন হওয়ার আগেই ক্যাবিনেট কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে এই গণপরিষদ গঠিত হয়েছিল। ডঃ রাজেন্দ্রপ্রসাদ ছিলেন এই গণপরিষদের সভাপতি।
গণপরিষদের গঠন:-
Ø
গণপরিষদের
মোট সদস্যসংখ্যা ছিল 389 এর মধ্যে 296 জন
ছিলেন প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত (ব্রিটিশ ভারতের 11টি গভর্নর শাসিত
প্রদেশ থেকে 292 জন এবং 4 মুখ্য
কমিশনার শাসিত দিল্লী, আজমীর- মারওয়ার, কুর্গ ও ব্রিটিশ বালুচিস্তান
থেকে 1 জন করে মোট
4 জন প্রতিনিধি ছিলেন)।
Ø প্রতিটি প্রদেশে মুসলিম, শিখ এবং সাধারণ এই তিনটি সম্প্রদায়ের জনসংখ্যার অনুপাতের নিরিখে আসনগুলি সংরক্ষিত ছিল।
Ø অবশিষ্ট 93টি আসনে ছিলেন দেশীয় রাজ্যসমূহের মনোনীত প্রতিনিধিরা, যদিও পরবর্তী কালে, তাঁরা পরিষদে যোগদান করা থেকে বিরত থাকেন। ফলে ঐ আসনগুলি শূন্য থেকে যায়।
Ø প্রতিটি রাজ্য এবং প্রদেশ থেকে তাদের জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ করা হয়েছিল। গড়ে দশলক্ষ জনসংখ্যা পিছু একটি করে আসন নির্দিষ্ট করা হয়।
v
গণ পরিষদ
ও সংবিধান রচনার
ইতিহাস:-
Ø 1935 সালে সংবিধান রচনার জন্য গণপরিষদ গঠনের দাবী প্রথম তোলে স্বরাজ দল।
Ø 1946 সালে ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনার অধীনে গঠিত হয় গণপরিষদ। গণপরিষদ গঠনে অংশগ্রহণ করে নি কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া। গণপরিষদের সদস্যরা ছিলেন প্রাদেশিক আইনসভা দ্বারা নির্বাচিত।
Ø প্রথমে মুসলিম লীগ গণপরিষদ গঠনে অংশগ্রহণ করেছিল। গণপরিষদের প্রাথভির সদস্য সংখ্যা ছিল 389। পরে, মুসলিম লীগের প্রতিনিধিরা গণপরিষদের সদস্যপদ ত্যাগ করার পর গণপরিষদের সদস্য সংখ্যা হয় 299
Ø 1946 সালে 9 ই ডিসেম্বর, অনুষ্ঠিত হয় গণপরিষদের প্রথম সভা। ঐ সভায় গণপরিষদের প্রবীণতম সদস্য রূপে গণপরিষদের কার্যনির্বাহী সভাপতির পদ অলঙ্কৃত করেন ডঃ সচ্চিদানন্দ সিনহা।
Ø 1946 সালে 11 ই ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় গণপরিষদের দ্বিতীয় সভা।
Ø ঐ সভায় গণপরিষদের স্থায়ী চেয়ারম্যান রূপে নির্বাচিত হন ডক্টর রাজেন্দ্রপ্রসাদ।
Ø ভারতীয় সংবিধান রচনার জন্য গণপরিষদে গঠিত হয় মোট 15 টি কমিটি।
Ø খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন ডক্টর বি আর আমবেদকর। তাঁকে ভারতীয় সংবিধানের স্থপতি বলে মনে করা হয়। খসড়া কমিটিতে চেয়ারম্যানসহ মোট সাত জন সদস্য ছিলেন।
Ø গণপরিষদের সাংবিধানিক উপদেষ্টা ছিলেন বি. এন. রাউ।
Ø গণপরিষদে সব সিদ্ধান্ত গৃহীত হত সর্বসম্মতিক্রমে।
Ø 1947 সালে 22 শে জানুয়ারি গণপরিষদের সম্মুখে উদ্দেশ্যমূলক প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন জওহরলাল নেহেরু
Ø 1949 সালে 26 শে নভেম্বর গৃহীত হয় ভারতীয় সংবিধান ভারতীয় সংবিধান গৃহীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে যে বিষয়গুলো কার্যকর হয় তাদের মধ্যে অন্যতম নাগরিকতা সংক্রান্ত বিষয়, নির্বাচন ও কার্যনির্বাহী সংসদ।
Ø 1950 সালে 26 শে জানুয়ারি কার্যকরী হয় ভারতীয় সংবিধান
v গণপরিষদের সদস্যগণ প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং আইনসভার সদস্যরা নির্বাচিত হয়েছিলেন সাধারণ জনতাদের নিয়ে গঠিত নির্বাচক মন্ডলী দ্বারা। তৎলকালীন ভারতে মাত্র 14% ভারতবাসীর ভোটাধিকার ছিল।
v ব্যক্তিবিশেষরূপে ভারতীয়দের দ্বারা ভারতীয় সংবিধান রচনার দাবী জনসমক্ষে প্রথম উত্থাপন করেন মানবেন্দ্রনাথ রায়, ভারতে কমিউনিস্ট মুভমেন্টের জনক।
v গণপরিষদ ভারতের জাতীয় পতাকাকে গ্রহণ ও অনুমোদন করে 22শে জুলাই, 1947 (পতাকিটির নকশা তৈরী করেছিলেন পিঙ্গলি ভেঙ্কাইয়া নামক অন্ধ্রপ্রদেশের এক বাসিন্দা)।
v
26শে
জানুয়ারি তারিখটিকে
ভারতের প্রজাতন্ত্র
দিবস হিসাবে নির্বাচনের
কারণ:-
1929 সালে,
লাহোরে, জওহরলাল নেহেরুর সভাপতিত্বে, কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্য রূপে 'স্বায়ত্তশাসন' এর পরিবর্তে পূর্ণ
স্বরাজের দাবী গৃহীত হয়। লাহোর কংগ্রেসে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত
হয় যে, ইংরেজ সরকার স্বাধীনতা দিক বা না দিক,
পরের বছর থেকে প্রত্যেক বছর ' 26শে জানুয়ারি দিনটিকে,
কংগ্রেসের নেতৃত্বে সারা ভারত জুড়ে স্বাধীনতা দিবস রূপে পালন করা হবে। 1930 1947 সাল এই দীর্ঘ সময়,
প্রত্যেক বছর, 26শে জানুয়ারি দিনটিকে
ভারতের স্বাধীনতা দিবস রূপে পালন করেছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। 26শে জানুয়ারির এই
ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে, 1950 সালের, ঐ দিনটিতেই ভারতীয়
সংবিধান কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
v
ক্যাবিনেট মিশনের পরিকল্পনা :-
Ø
ভারতের
সংবিধান রচনার জন্য ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনার
অধীনে পূর্ণপরিষদ গঠিত হয়েছিল।
Ø
গণপরিষদের
প্রতীক ছিল হাতি।
Ø
১৯৪৬
সালের জুলাই মাসে গণপরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর সদস্য সংখ্যা ছিল ২৮৯ জন। এর
মধ্যে ২৯৬ জন ছিলেন ব্রিটিশ শাসিত প্রদেশগুলির আইনসভা (বো, বিধানসভা) থেকে নির্বাচিত
প্রতিনিধি, মা জিন খুঁজেন দেশীয় রাজাদের দ্বারা মনোনীত প্রতিনিধি। প্রত্যক্ষ জনগণ দ্বারা
নির্বাচিত ২৯৬ জন প্রতিনিধিদের মধ্যে কংগ্রেসের ছিল ২০৮ জন, মুসলিম লিগের ৭৩ জন এবং
বাকী ১৫ জন নির্দল-সহ বিভিন্ন দলের। সুতরাং গণপরিষদের সদস্যদের একাংশ (২৯৬ জন) ছিলেন
প্রত্যক্ষ জনগণ (প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যগণ দ্বারা) কর্তৃক নির্বাচিত এবং অন্য অংশ
(৯৩ জন) ছিলেন মনোনীত। ভাবিধান রচনার সর্ববৃহৎ উৎস ছিল ভারত সরকার আইন, ১৯৩৫।
Ø
ভারতীয়
সংবিধান 'ভারত শাসন আইন ১৯৩৫'-কে মডেল তারই
রচিত হয়েছিল।
Ø
গণপরিষদের
প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালের ৯-২৩ ডিসেম্বর দিল্লির কনস্টিটিউশন হল-এ। ২০৭ জন
সদস্য এতে অংশগ্রহণ করেন।
Ø
মুসলিম
লিগের সদস্যরা এই সভা বয়কট করেন, কারণ তাঁরা পৃথক পাকিস্তানের দাবী জানাতে থাকেন।
Ø
প্রথম
সভায় সভাপতিত্ব (অস্থায়ী) করেন ড. সচ্চিদানন্দ সিনহা। কংগ্রেস সভাপতি জে বি কৃপালিনীর
প্রস্তাবক্রমে বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে সচ্চিদানন্দ সিনহাকে অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে
নিযুক্ত করা হয়।
Ø
পরবর্তীতে
গণপরিষদের স্থায়ী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ড. রাজেন্দ্রপ্রসাদ।
Ø
গণপরিষদের
দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৭ সালের ২০-২৫ জানুয়ারি।
Ø
সহ-সভাপতি
হন হরেন্দ্র কুমার মুখোপাধ্যায়। ঐ সভায় গণপরিষদে গঠিত হয় মোট ২২টি কমিটি (এর মধ্যে
১৭টি মূল কমিটি) গঠিত হয়। গণপরিষদের মোট ১১টি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
Ø
গণপরিষদের
দ্বারা গঠিত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কমিটি ছিল খসড়া কমিটি। খসড়া কমিটির সভাপতি ছিলেন ড.
বি. আর. মাজেদকর। তাঁকে 'সংবিধানের জনক বা স্থপতি' বলা হয়।
Ø
৯
ডিসেম্বর ১৯৪৬ থেকে ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ পর্যন্ত অর্থাৎ ২ বছর ১১ মাস ১৮ দিন সময়ে ভারতের
গণপরিষদ দ্বারা সংবিধানের খসড়া রচিত হয়েছিল। ভারতীয় গণপরিষদের সাংবিধানিক সভা যারা
সংবিধানের খসড়া 'ভারতীয় সংবিধান' হিসেবে গৃহীত হয় ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর, সদস্য কর্তৃক
স্বাক্ষরিত হয় ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি এবং ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি আরোপিত বা কার্যকর
করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই নিটিকে ভারতে 'প্রজাতন্ত্র দিবস' হিসেবে পালন করা হয়।
Ø
ভারতীয়
সংবিধানের প্রথম নক্সা ও পান্ডুলিপিকরণ করেছিলেন পাস্তিনিকেতনের কলাভবনের শিল্পী নন্দলাল
বোস। তিনি অজন্তা গুহাচিত্রের শিল্পকর্ম অনুকরণ করে সংবিধানের এই অলংকরণ হরেন। সেই
সংবিধানে একটি মুখবন্ধ, ৩৯৫টি ধারা, ২২টি পার্ট বা অধ্যায় এবং ৮টি সিডিউল বা তপশিল
অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে যায্যাগত দিক থেকে সংবিধানে ৪৬৭টি ধারা, ২৫টি অধ্যায় এবং
১২টি তপশিল আছে।
Ø
ভারতীয়
সংবিধানে সুপরিবর্তনীয়তা ও বৃস্পরিবর্তনীয়তা উভয়প্রকার বৈশিষ্টের সমন্বয় দেখা যায়।
Ø
পৃথিবীর
বৃহত্তম এই সংবিধান হাতে লেখা হয়েছিল। লিখেছিলেন প্রেম বিহারী নারাইন রাইজাদা।
Ø
গৃহীত
হবার দিন থেকে ভারত একটি সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র রাষ্ট্রে পরিণত হয়। কমিউনিস্ট
পার্ট অব ইন্ডিয়া ও মুসলিম সদস্যগণ গণপরিষদে যোগদানে বিরত থাকেন। গণপরিষদ দ্বারা ১৯৪৭
সালের ২২ জুলাই আমাদের জাতীয় পতাকা গৃহীত হয়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বন্দেমাতরম্'
ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জন-গণ-মন' ভারতের জাতীয় সঙ্গীত * স্তোত্র হিসেবে গৃহীত হয় ২৪
জানুয়ারি ১৯৫০ সালে। গণপরিষদের সর্বশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫০ সালের ২৪ গনুয়ারি।
ওই একই দিনে গণপরিষদ ড. রাজেন্দ্রপ্রসাদকে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত
করে।
Ø
ভারতে
দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠিত হয় ১৯৫২ সালের মে মাসে।
v
ক্যাবিনেট মিশনের সদস্য:- 1.
স্যার পেথিক লরেন্স,
2. স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্লিপস 3. এবং এ ডি আলেকজান্ডার)
v
গণপরিষদের কয়েকজন
বিশিষ্ট সদস্যের নাম:-
নির্দল সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, জওহরলাল নেহেরু, ডঃ বি আর
আম্বেদকর, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, এইচ এন কুঞ্জরু, তেজ
বাহাদুর সাধু, সি রাজাগোপালাচারি, কে শান্তানাম,
কে এম মুন্সি, আল্লাদী
কৃষ্ণস্বামী আইয়ার এবং অন্যান্যরা।
v
সংবিধান খসড়া
কমিটির সদস্যগণ:-
v
চেয়ারম্যান/সভাপতি
:-ডঃ বি. আর. আম্বেদকর
v অন্যান্য সদস্যবৃন্দ:- 1. এন. গোপালস্বামী আয়েঙ্গার 2. আল্লাদি কৃষ্ণস্বামী আইয়ার 3. কে এম মুন্সী
4. সৈয়দ মহম্মদ শাহদুল্লা 5. এন মাধব রাও (বি. এল. মিত্রের সদস্যপদ বাতিল হওয়ায়)
6. ডি পি খৈতান (1948 সালে প্রয়াত হন) টি টি কৃষ্ণস্বামী (ডিপি খৈতানের স্থলাভিষিক্ত হন)
v
গণপরিষদ ও
ভারতীয়
সংবিধান
রচনা
সংক্রান্ত
কিছু
বিশেষ
তথ্য:-
Ø
সংবিধান
রচনা করতে সময় লেগেছে মোট 2 বছর 11 মাস এবং 17 দিন অর্থাৎ প্রায় 3 বছর।
Ø সংবিধান রচনার জন্য মোট খরচ হয়েছে 64 লক্ষ ভারতীঢ় মুদ্রা।
Ø সংবিধান রচনার সময় গণপরিষদের মোট 11 টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সবক'টি অধিবেশনের কার্যশীল দিনগুলির যোগফল 165 দিন।
Ø 1946 সালের ডিসেম্বর, দিল্লির কনস্টিটিউশন হলে, গণপরিষদের প্রথম সভায়, উপস্থিত ছিলেন 207 জন সদস্য।
Ø গণ পরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে, গণপরিষদের সহ-সভাপতি রূপে নির্বাচিত করা হয় হরেন্দ্র কুমার মুখোপাধ্যায়কে।
Ø 1947 সালের 29 আগষ্ট গঠিত হয় সাত সদস্য বিশিষ্ট খসড়া কমিটি যার সদস্যরা ছিলেন বি. আর. আম্বেদকার (চেয়ারম্যান), আল্লাদী কৃষ্ণস্বামী আইয়ার,, এন গোপালস্বামী আয়েঙ্গার, কে. এম. মুন্সী, সৈয়দ মহম্মদ শাহদুল্লা, বি. এল. মিত্র এবং ডি. পি. খৈতান। পরবর্তীকালে, বি. এল. মিত্রের সদস্যপদ বাতিল হওয়ার পর সেই পদে নির্বাচিত হন এন, মাধব রাউ এবং ডি. পি. খৈতানের মৃত্যুর পর তাঁর স্থলে নির্বাচিত হন টি. টি. কৃষ্ণস্বামী
v
গণপরিষদে গঠিত
কয়েকটি বিশেষ কমিটি:-
1. সভার কার্যবিবরণী সম্পর্কিত কমিটি, 2. কার্যনির্বাহক কমিটি, 3. কেন্দ্রীয় ক্ষমতা সম্পর্কিত কমিটি,
4. মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত পরামর্শদাতা কমিটি, 5. সংখ্যালঘু সম্পর্কিত উপদেষ্টা কমিটি,
6. কেন্দ্রীয় শাসনতন্ত্র সম্পর্কিত কমিটি, 7. প্রাদেশিক শাসনতন্ত্র সম্পর্কিত কমিটি। চেয়ারম্যান: পন্ডিত নেহেরু।,
৪.
সংবিধান প্রণয়ন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি। চেয়ারম্যান পন্ডিত নেহেরু , 9. খসড়া কমিটি। চেয়ারম্যান: পন্ডিত নেহেরু
v
সংবিধানের রচনা:-
Ø
গণপরিষদের
প্রথম অধিবেশন ৭ ডিসেম্বর, 1946 সালে নিউ দিল্লীতে অনুষ্ঠিত হয়। মুসলিম লিগের সদস্যরা
এই অধিবেশন বয়কট করায় কেবলমাত্র 211 জন সদস্য যোগদান করেন।
Ø
পরিষদের
বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য ডঃ সচ্চিদানন্দ সিনহাকে গণপরিষদের অস্থায়ী সভাপতি বা চেয়ারম্যান হিসেবে
নিয়োগ করা হয়। পরে 11ই ডিসেম্বর তারিখে ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ এবং এইচ. সি. মুখার্জী
পরিষদের স্থায়ী চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে যথাক্রমে নিযুক্ত হন।
Ø
1946
সালের 13 ডিসেম্বর জওহরলাল নেহরু ভারতীয় সংবিধানের উদ্দেশ্য "সমূহ সংক্রান্ত প্রস্তাব"
(The Objective Resolution) -টি উত্থাপন করেন। 22 জানুয়ারীর, 1947-র অধিবেশনে এই প্রস্তাব
সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়, এবং পরবর্তীকালে এই অংশটিকে 'প্রস্তাবনা' -র আকারে লিপিবদ্ধ
করা হয়।
কমিটি
চেয়ারম্যান/সভাপতি
![]()
Ø
খসড়া
কমিটি ড. বি
আর আম্বেদকর
Ø স্টিয়ারিং কমিটি ড. রাজেন্দ্রপ্রসাদ
Ø কেন্দ্রীয় ক্ষমতা সম্পর্কিত কমিটি জওহরলাল নেহরু
Ø কেন্দ্রীয় শাসনতন্ত্র সম্পর্কিত কমিটি জওহরলাল নেহরু
Ø প্রাদেশিক শাসনতন্ত্র সম্পর্কিত কমিটি জওহরলাল নেহরু
Ø মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত সাব কমিটি জে বি কৃপালিনী
Ø মৌলিক অধিকার, , সংখ্যালঘু ও আদিবাসী বিষয় সংক্রান্ত পরামর্শদাতা কমিটি- বল্লভভাই প্যাটেল
Ø সংখ্যালঘু সম্পর্কিত উপদেষ্টা কমিটি এইচ সি মুখার্জি
Ø সভার কার্যাবলি সম্পর্কিত কমিটি জি ভি মভলঙ্কার
Ø জাতীয় পতাকা সম্পর্কিত অ্যাড হক কমিটি ড. রাজেন্দ্রপ্রসাদ
v
ভারতীয় সংবিধানে
গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থা
যে দেশ থেকে
নেওয়া:-
|
বিষয়/ব্যবস্থা |
যে দেশের অনুকরনে |
|
* প্রষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার স্পিকার, একক নাগরিকত্ব, সংসদীয় সরকার বা পার্লামেন্টারি "শাসনব্যবস্থা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় আইনসভা, নিম্নকক্ষ বেশি শক্তিশালী, ক্যাবিনেট ব্যবস্থা, আইনতান্ত্রিক শাসন, পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি। |
ব্রিটিশ সংবিধান |
|
* মৌলিক কর্তব্য, প্রস্তাবনায় সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচারের ধারণা, পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। |
পূবর্তন রশিয়ার সংবিধান |
|
* রাষ্ট্র পরিচালনায় নির্দেশাত্মক নীতি (Directive Principles of State Policy), রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ব্যবস্থা, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক রাজ্যসভায় সদস্য মনোনীত করা। |
আয়ারল্যায়ের সংবিধান |
|
মৌলিক অধিকার, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, লিখিত সংবিধান, সুপ্রিমকোর্ট এবং হাইকোর্টের বিচারপতিদের অপসারণ প্রক্রিয়া, যুক্তরাষ্ট্রীয় নকশা, রাজ্যপালের দপ্তর, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে উপরাষ্ট্রপতির কাজ, গভর্নমেট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্ট (ভারত শাসন আইন): 1935, যুক্তরাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থার ক্ষমতা, মুখবন্ধে (প্রস্তাবনা)- 'আমরা ভারতের জনগণ।' |
আমেরিকার সংবিধান |
|
কনকারেন্ট (সংযুক্ত) তালিকা/যুগ্ম তালিকা, উভয় কক্ষের যৌথ অধিবেশনের ব্যবস্থা, মুখবন্ধের বক্তব্য। |
অস্ট্রেলিয়ার সংবিধান |
|
জরুরি অবস্থা। |
জার্মানির সংবিধান |
|
* যুক্তরাষ্ট্রীয় (Federal) শাসনব্যবস্থা, কেন্দ্রের হাতে অবশিষ্ট ক্ষমতা, রাষ্ট্রপতির শাসনের সময় মৌলিক অধিকার হরণ। |
কানাডার সংবিধান |
|
* প্রস্তাবনায় স্বাধীনতা সাম্য ও মৈত্রীর ধারণা, রিপাবলিকান শব্দটি। |
ফ্রান্সের সংবিধন |
|
* সুপ্রিমকোর্টের গঠন ও কার্য পরিচালনার নিয়মাবলী |
জাপানের সংবিধন |
|
সংবিধান সংশোধন পদ্ধতি, রাজ্যসভার সংসদ নির্বাচন। |
দক্ষিণ আফ্রিকা |
|
লোকপাল সম্পর্কিত ধারণা |
সুইডেন |
|
|
|
